JANA BUJHA

কেঁচো কৃমি Roundworm লক্ষণসমূহ চিকিৎসা জীবন চক্র Best 1

কেঁচো কৃমি Roundworm লক্ষণসমূহ চিকিৎসা জীবন চক্র নিয়ে আমরা জানব এই লিখার মধ্য দিয়ে। কারণ কৃমি যেহেতু আমাদের খুব কমন সমস্যা তাই সকলেরই কিছু ধারণা থাকা দরকার। 

কেঁচো কৃমি Roundworm|জীবন চক্র:

প্রাপ্তবয়স্ক কেঁচো কৃমি ক্ষুদ্রান্ত্রে বাস করে। এটা পৃথিবীর সর্বত্র দেখা যায়। কৃমির ডিম মাটির তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার উপর নির্ভর করে ১০ থেকে ৪০ দিনের মধ্যে শূককীটে (বডিটিফর্ম লার্ভা) রূপান্তরিত হয়।

এই শূককীট বা র‍্যাবডিটিফর্ম লার্ভা পানি বা অন্যান্য খাবারের সাথে ক্ষুদ্রান্ত্রে আসে এবং খাদ্যনালী ভেদ করে রক্তনালীর মধ্যে প্রবেশ করে।

 

এর পর রক্তনালী দিয়ে যকৃতে (লিভার) যায়। এখানে ৩-৪ দিন থাকার পরে হৃৎপিন্ডে যায়। হৃৎপিন্ড থেকে ফুসফুসে যায়। ফুসফুস থেকে উপরে উঠতে থাকে এবং খাদ্যনালীতে গিয়ে পড়ে।

 

এখান থেকে আবারও ক্ষুদ্রান্ত্রে চলে যায় এবং প্রাপ্তবয়স্কে পরিণত হয়। এই অবস্থায় পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় দুই মাস। একটা স্ত্রী কেঁচো কৃমি প্রতিদিন অসংখ্য ডিম পাড়তে পারে।

কেঁচো কৃমি-Roundworm লক্ষণসমূহ চিকিৎসা জীবন চক্র

কেঁচো কৃমি Roundworm| লক্ষণসমূহ:

১. পেটে ব্যথা করে, মাঝে মাঝে বমি বমি ভাব বা বমি হয়। এছাড়া অনিয়মিত পায়খানা হয়৷

২. এই কৃমিতে ভুগতে থাকলে শিশুরা অপুষ্টির শিকার হয়।

 

৩. ফুসফুস দিয়ে যাবার জন্য কাশি হয়। শ্বাসকষ্টও হতে পারে।

৪. অনেকগুলো কৃমি পেটের মধ্যে এক জায়গায় জমা হয়ে চাকার মত তৈরি করে। এভাবে জমা হয়ে অন্ত্রের পথ রোধও করতে পারে।

 

৫. কেঁচো কৃমির বিষ (Toxin) জ্বর আনতে পারে এবং রোগীকে খুব দুর্বল

করে দেয়।

৬. পায়খানার সাথে বা বমির সাথে মুখ বা নাক দিয়ে কৃমি বের হতে পারে।

 

 

কেঁচো কৃমি Roundworm:জটিলতা:

১. অপুষ্টি।

২. অন্ত্রের পথরোধ (Intestinal obstruction)।

৩. লার্ভা ফুসফুস দিয়ে যাওয়ার সময় নিউমোনিয়া ঘটাতে পারে।

৪. এলার্জি বা আর্টিকেরিয়া।

৫. জণ্ডিস।

 

কেঁচো কৃমি Roundworm:চিকিৎসা

১. পাইপেরাজিন ট্যাবলেট বা সিরাপ

২. ১টা ট্যাবলেট-৫০০ মিলিগ্রাম।

৩. সিরাপ ১ চা চামচ-৫০০ মিলিগ্রাম।

 

পূর্ণ বয়স্কদের ক্ষেত্রে:

রাতে শোয়ার সময় এক সাথে ৬ টা ট্যাবলেট অথবা ৬ চা চামচ বা এক আউন্স সিরাপ খেতে হবে।

 

শিশুদের বেলায়:

৭৫ মিলিগ্রাম প্রতি কেজি ওজনের জন্য রাতে শোয়ার সময় একবার খেতে হবে।

১ বছরের নিচে : আধা চা চামচ,

১-৩ বছর : ১ চা চামচ,

৪-৫ বছর : ২ চা চামচ,

৬-১২ বছর : ৩ চা চামচ।

 

আরো পড়ুনঃ কৃমির ঔষধ কোনটা ভাল?

কৃমি কি:

অন্য প্রাণীর দেহে অবস্থান করে যে সব জীব জীবন ধারণ ও বংশবৃদ্ধি করে, তাদের পরজীবী বলা হয়। এ সব পরজীবীর মধ্যে যারা অপেক্ষাকৃত বড়, তাদের কৃমি বলা হয়। এরা খুব ছোট (কোন রকমে খালি চোখে দেখা যায়) থেকে কয়েক ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে।

 

আমাদের দেশে কোন কৃমির প্রকোপ বেশী:

কৃমি অনেক প্রকারের আছে। আমাদের দেশে কয়েক ধরনের কৃমি রোগ সবচেয়ে বেশী। যেমন :

১. কেঁচো কৃমি

২. সূতা কৃমি

৩ . চাবুক কৃমি

৪. বক্র কৃমি

এ ছাড়া, আরো কয়েক ধরনের কৃমিও মাঝে মধ্যে দেখা যায় । যেমন:

৫. ফিতা কৃমি

৬. বেঁটে ফিতা কৃমি

৭. ষ্টংগিলইডিস ষ্টার কোরালিস

৮. পাতা কৃমি

৯. ফাইলেরিয়া

১০. হাইডাটিভ

 

কৃমি রোগ-এর কারণ :

স্বাস্থ্য অসেচতনতা, অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন জীবন যাপন ও খাবার, পানীয় এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। এ রোগ-এর অন্যতম কারণ ।

সাধারণত কৃমির উপযুক্ত পায়খানা বেশীর ভাগ কৃমি রোগের অন্যতম উৎস। খোলা ও অবৈজ্ঞানিক পায়খানা এ রোগ বিস্তারের অন্যতম সহায়ক উৎস এবং এ উৎস পরিবেশকে দূষিত করলে সে দূষিত পরিবেশে সুস্থ মানুষের শরীরে এ রোগ ছড়ায়।কেঁচো কৃমি Roundworm

কেঁচো-কৃমি-Roundworm-লক্ষণসমূহ-চিকিৎসা-জীবন-চক্র.
                                                          কেঁচো-কৃমি-Roundworm-লক্ষণসমূহ-চিকিৎসা-জীবন-চক্র.

 

জনসাধারণ কিভাবে কৃমি রোগ প্রতিরোধ করতে পারেন ?

কৃমি রোগ প্রতিরোধ করা জনসাধারণের উপরই নির্ভর করে। বস্তুত সব সভ্য ও উন্নত দেশই জনসাধারণের সহায়তায় এ রোগকে নির্মূল করতে সমর্থ হয়েছে । এ রোগ নির্মূল করতে হলে নিজে পরিষ্কার থাকুন, নখ ছোট রাখুন। মল ত্যাগের পর সাবান দিয়ে হাত ভাল করে পরিষ্কার করুন।

 

প্রত্যেকবার খাবার আগে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন । গ্রামের জনসাধারণকে উন্মুক্ত জায়গায় মলত্যাগ করা থেকে নিবৃত্ত করুন এবং বিজ্ঞানসম্মত লেট্রিন যেমন : ওয়াটার ল্যাট্রিন, মাটিতে গর্ত করে ল্যাট্রিন নির্মাণ ও ব্যবহারে সচেষ্ট করুন। খালি পায়ে ময়লা কাদাযুক্ত মাটিতে হাঁটা এবং লেট্রিন-এ যাওয়া পরিহার করুন । মশার কামড় থেকে নিজেকে বাঁচান ।কেঁচো কৃমি Roundworm

কেঁচো কৃমি Roundwormকেঁচো কৃমি Roundworm

খোলা জীবনুযুক্ত দূষিত খাবার ও পানীয় এবং মশা-মাছি ও কীটপতঙ্গ বসে- এমন খাবার থেকে বিরত থাকুন; বিশুদ্ধ খাবার ও পানীয় গ্রহণে সচেষ্ট হউন। কাঁচা ফলমূল, তরি-তরকারী ও সালাদ জাতীয় খাবার, কাবার আগে ভালমত গরম পানিতে ধুয়ে পরিষ্কার না করে খাবেন না। কাঁচা বা অর্ধসিদ্ধ গোশ্ত খাবেন না । শিক কাবাব খাবার আগে তা খুব ভালমত ঝলসানো কিনা, পরখ করে দেখুন।

কেঁচো কৃমি Roundworm

খাবার আগে বাসনপত্র, প্লেট, গ্লাস ইত্যাদি খুব ভালভাবে পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে নিন । আপনার জন্যে যারা রান্না করেন, থানা-বাসন পরিষ্কার করেন বা আপনার বাড়িতে কাজ করেন, এমন সবার নখ ছোট রাখতে ও সাবান ব্যবহার করতে বাধ্য করুন এবং দরকারমত এদের কৃমির চিকিৎসা করিয়ে নিন। কুকুরকে আদর করা বা কুকুরের সাথে খেলা করা থেকে বিরত থাকুন । কেঁচো কৃমি Roundworm

Leave a Comment