JANA BUJHA

থাইরয়েড এর লক্ষণ ও প্রাকৃতিক চিকিৎসা

 

থাইরয়েড এর লক্ষণ ও প্রাকৃতিক চিকিৎসা


নাক, কান,
  গলার সমস্যায়  ভুগেনি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া খুব দুষ্কর। এর মধ্যে একটি হলো গলার
সমস্যা। গলার সমস্যার মধ্যে সবচেয়ে কমন সমস্যা গুলো হল, টনসিল, থাইরয়েড গ্ল্যান্ডের
সমস্যা ইত্যাদি। তবে গলার অন্যান্য সমস্যা আলেঅচনা না করে আজকে আলোচনা হবে থাইরয়েড
কী, কেন হয়, করণীয় কী, প্রাকৃতিক চিকিৎসা কী, ডাক্তাররা কি চিকিৎসা সাজেস্ট করেন ইত্যাদি
নানা বিষয়।

থাইরয়েড কি?



 থাইরয়েড গ্রন্থি একটি  এনড্রোক্রাইন
গ্ল্যান্ড। থাইরয়েড
  হল গলার দুই পাশে থাকা একটি
বিশেষ
  গ্রন্থি। এই গ্রন্থি আমাদের শরীরে গুরুত্বপূর্ণ থাইরয়েড হরমোন
উৎপাদন,
  বন্টন ও  নিঃসরণ নিশ্চিত করে। এই হরমোনের
একটি নির্দিষ্ট মাত্রা আছে। এই নির্দিষ্ট মাত্রা থেকে কম বা বেশি হলে শরীরের নানান
সমস্যা দেখা দেয়।


এই হরমোন উৎপাদন কম হলে তাকে বলা হয় হাইপোথাইরয়েডিজম।
আর হরমোন বেশি মাত্রায় উৎপাদন হলে তাকে বলা হয় হাইপারথাইরয়েডিজম। থাইরয়েড হরমোনের
আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে স্নায়ুর পরিপক্কতা নিশ্চিত করা। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে
এটি শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

থাইরয়েড সমস্যায় নারী পুরুষ উভেয়েই ভুগতে পারেন।
সমীক্ষা এবং পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, প্রতি ১০০০ নারীর মধ্যে অন্তত ১৫ জন এবং ১০০০পুরুষের
মধ্যে
  ১ জন করে থাইরয়েড সমস্যা আক্রান্ত। থাইরয়েড গ্রন্থির প্রদাহ হলে
আমরা তাকে বলি থাইরয়েডাইটিস।

 

এছাড়া থাইরয়েড
গ্রন্থিতে ক্যান্সার বা টিউমারও হতে পারে। গলবন্ধ বা থাইরয়েড ফুলে যাওয়া বা বড় হয়ে
যাওয়া। যা গলার সামনে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে যা হাত দিলে বোঝা যায়। তবে হাইপো থাইরয়েডিজম
হাইপার থাইরয়েটিজম থাইরয়েডাইটিস বা ক্যান্সার, টিউমারও  এর যে কোনটির জন্য গলা
 ফুলতে পারে। থাইরয়েডের বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে হাইপার ও হাইপো থাইরয়েডিজমই
অন্যতম।

 


হাইপার থাইরয়েডিজম কি?



যখন আমাদের শরীর প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত
  থাইরক্সিন হরমোন উৎপাদন করে তাকে হাইপার থাইরয়েডিজম বলে।
হাইপার থাইরয়েডিজমের বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। এর
প্রধান হচ্ছে অতিরিক্ত হরমোন উৎপাদন করা। সাধারণত একটি নডিউল অতিরিক্ত হরমোন নিঃসরণের
জন্য দায়ী যাকে হট নডিউল বলে। থাইরয়েডাইটিস বা থাইরয়েডের প্রদাহ হাইপার থাইরয়েডিজম
এর কারণ হতে পারে।
 

হাইপো থাইরয়েডিজম
কি?



হাইপো থাইরয়েডিজম এমন একটি প্রক্রিয়া। যে প্রক্রিয়ার
মাধ্যমে আমাদের শরীর পর্যাপ্ত থাইরয়েড হরমোন উৎপাদন করতে পারে না।

যে কারণে এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি বিভিন্ন শারীরিক
সমস্যার সম্মুখীন হন। যেমন ক্লান্তি, চুল পড়া, ওজন বৃদ্ধি, শারীরিক দুর্বলতা ও ডিপ্রেশনের
মত লক্ষণ দেখা দেয়। হাইপো থাইরয়েডিজম সাধারণত থাইরয়েড গ্রন্থির প্রদেহ থাইরয়েডাইটিস
এর কারনে হয়। থাইরয়েডাইটিস একটি অটোইমিউন
  ডিসঅর্ডার।
এটি শরীরে এন্টিবডি তৈরি করে যা থাইরয়েড
  গ্রন্থিকে  আক্রমণ করে এবং ধ্বংস করে।

হাইপো থাইরয়েটিজমের
কারণ



সাধারণত আমাদের দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় তিন শতাংশ
হাইপোথাইরয়েডিজোম এর শিকার। এর প্রধান কারণ হচ্ছে আয়োডিনের ঘাটতি। আয়োডিনের স্বল্পতা
এই রোগের
  প্রধান কারণ গুলোর একটি। এছাড়া
থাইরয়েড গ্রন্থির নানারকম প্রদাহের কারণেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।

 

যেমন থাইরয়েড
গ্রন্থির ইনফ্লামেশন অথবা হাইপোথ্যালামাস বা পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত থাইরয়েড
সিমুলেটিং হরমোনের স্বল্পতাও এই রোগের কারণ হতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায়
তাদের শারীরিক মেটাবোলেজম বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এই হরমোন ব্যাপক ভূমিকা রাখে। এই হরমোনের
আধিক্যের কারণে সাময়িকভাবে এই হরমোনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

 

কিন্তু বাচ্চা
জন্মদানের পর তা এমনিতেই ঠিক হয়ে যায়। কিন্তু যদি গর্ভবতী মায়ের আগে থেকেই আয়োডিনের
ঘাটতি থাকে তাহলে
  তা প্রকট হয়ে দেখা দিতে পারে।
তাই দেখা যায় সন্তান জন্মদানের পর এক বছরের মধ্যে প্রায় পাঁচ শতাংশ মহিলা বাচ্চা
  জন্মদানের  পরবর্তী সময় থাইরয়েডিটিজে  আক্রান্ত হন।




 থাইরয়েড রোগের লক্ষণ



প্রাথমিকভাবে যে লক্ষণ গুলো দেখা দেয় তা নিম্নে
  আলোচনা করা হলো 



১. ঠান্ডা
সহ্য করতে না পারা, ঠান্ডার প্রতি স্পর্শকাতরতা বৃদ্ধি পায়।

২. ওজন ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়া, এমনকি স্বল্প আহারে
ওজন বৃদ্ধি পাওয়া।

৩. শরীরের অন্ত কোষীয় কলার বৃদ্ধি এবং তাতে পানি জমা
শুরু করা।

৪. নাড়ির গতি কমে যাওয়া, দেখা গেছে এই ক্ষেত্রে নাড়ির
গতি মিনিটে
  ৬০ বারেরও কম হয়।

৫. ঘামের পরিমাণ হ্রাস পাওয়া।
৬. ত্বক শুষ্ক হয়ে যায় এবং চুলকানির প্রবণতা বৃদ্ধি
পায়।

৭.  পেশি শৈথিল্যতা
এবং তা হালকা ব্যথা করে।

৮. দৈহিক
অবসাদ বা অসস্তি দেখা দিতে পারে
  এবং সারা দেহের অস্থিসন্ধিতে
ব্যথা হতে পারে।

৯. বিষন্নতা বা মানসিক অবসাদগ্রস্ততা।
১০. বিশেষ ক্ষেত্রে গলগন্ড দেখা দিতে পারে।

১১. মেয়েদের ক্ষেত্রে মাসিকের সমস্যা হতে পারে।
১২. চুল পড়া দেখা দিতে পারে।

১৩. কিছু কিছু ক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়।
১৪ ত্বক মলিন
হয়ে যেতে পারে।

বিলম্বিত লক্ষণ


১ শরীরের অন্তকোষীয় কলা বৃদ্ধি ও পানি জমার জন্য এমনকি
কার্পাল টার্নেল সিনড্রোম পর্যন্ত হতে পারে।

  ত্বক শুষ্ক
এবং ফুলে যায় বিশেষ করে মুখ।

৩. চিন্তা ধারার গতি মন্থর হয়ে যায়।

  স্বরতন্ত্রীর  স্ফীতির জন্য  স্বর ভেঙে গিয়ে ভারী হয়ে
যায়।

৫ এই দুই কারণে কথা ধীরে ধীরে বলতে হয়।

৬ অনিয়মিত রজ চক্র দেখা দিতে পারে।

৭ শরীরের তাপমাত্রা হ্রাস পায়।

তাছাড়া বিরল
যে লক্ষণ গুলো দেখা দেয় তার নিম্নরূপ



১. স্মৃতিশক্তির অবক্ষয়

২. অমনোযোগ

৩. ধীরগতির  হৃদস্পন্দন

৪. মাথায় টাক পড়া

৫. ত্বক বাদামি হয়ে যাওয়া

৬. ধীর স্নায়ুবিক রিফ্লেক্স

৭. খাবার গিলে খেতে সমস্যা

৮. ঘ্রাণশক্তি হ্রাস পাওয়া

৯. অস্থির  মেজাজ

১০. যৌন উত্তেজনা হ্রাস

১১. মেক্সিডিমা/ কোমা

 

আরো পড়ুনঃ


কি কি পরীক্ষার মাধ্যমে হাইপোথাইরয়েডিজম শনাক্ত
করা যায়?

রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে হাইপোথাইরয়েজম সনাক্ত করা
যায় এক্ষেত্রে টি থ্রি, টি ফোর এবং টিএস এইচ পরীক্ষার মাধ্যমে আমরা
হাইপোথাইরয়েডিজম শনাক্ত করতে পারি।


থাইরয়েড এর লক্ষণ ও প্রাকৃতিক চিকিৎসা

 

হাইপোথাইরয়েডিজম
এর প্রাকৃতিক সমাধান



সেলেনিয়াম
কিছু কিছু গবেষণায় দেখা গেছে সেলিনিয়াম এই
সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সেলেনিয়াম অটো ইমিইউন থাইরয়েড এর
সমস্যা সমাধানে বিশেষ ভূমিকা রাখে। সঠিক মাত্রায় সেলিনিয়াম গ্রহণের ফলে থাইরয়েড
ঝুঁকি কমানো সম্ভব। যেসব খাবারে আমরা সেলিনিয়াম পেতে পারি তা হল। ব্রাজিল
নাটস,সামুদ্রিক খাবার,তৈলাক্ত মাছ,বাদামি চাল এবং টার্কির মাংস। এসব খাবার খুব
সহজেই থাইরয়েড সমস্যার সমাধান দিতে পারে।
কিন্তু
যে কোন সাপ্লিমেন্ট নেয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি।


জিংক



বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে জিংক গ্রহণের ফলে
থাইরয়েড সমস্যার খুব ভালো সমাধান মেলে।
  জিংক সুস্থ থাইরয়েড ফাংশন
অব্যাহত রাখতে সহায়তা করে।এর ফলে যে সমস্যাগুলো হয় তার মধ্যে ত্বকের অথবা
চামড়ার সমস্যা, চুল পড়া সমস্যা ইত্যাদি সমাধানের জিংক ব্যাপক ভূমিকা রাখে। জিঙ্ক
আমরা যেসব খাবারে পেতে পারি তা হল সামুদ্রিক মাছ, কেশুনাট,ওটমিল এবং ডেইরি পণ্য।

হলুদ,
এলোভেরা এবং অর্শগন্ধা।



এই প্রাকৃতিক উপাদান তিনটি হাইপোথাইরয়েডিজম
সমস্যা সমাধানে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে।
অর্শগন্ধা
নিয়ে ২০১৮ সালে গবেষণায় দেখা গেছে যাদের হাইপোথাইরয়েজমের সমস্যা আছে তারা ৬০০
মিলিগ্রাম অর্শগন্ধা চূর্ণ সেবনে থাইরয়েড সমস্যা থেকে সমাধান পাওয়া সম্ভব।

অন্য আরেকটি গবেষণায় দেখা যায়। হলুদের গোড়ায়
যে উপাদান রয়েছে তা থাইরয়েড বৃদ্ধি কমিয়ে দিতে সহায়তা করে। শুধু তাই নয় এটি
থাইরয়েড হরমোন লেভেল স্বাভাবিক রাখে। তাছাড়া ভিটামিন সি এবং ভিটামিন ই গ্রহণের
ফলেও থাইরয়েড সমস্যার উল্লেখযোগ্য উপকার পাওয়া যায়।

কিছু গবেষকদের দাবি হাইপো থাইরয়েডের রোগী যদি প্রতিদিন
৫০০ এমএল এলোভেরা রস সেবন করে,তবে তার টি থ্রিটি ফোর লেভেল স্বাভাবিক হয়ে আসে।
এসব প্রাকৃতিক উপাদান গ্রহণের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।

হাইপো
থাইরয়েডিজম এর চিকিৎসা।

অবশ্যই একজন হরমোন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা
গ্রহণ করতে হবে। হাইপো থাইরয়েজমের চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগীকে মুখে খাওয়ার বড়ির
লেবোথাইরক্সিন দেয়া হয় যার মাধ্যমে হরমোনের ঘাটতি পূরণ করা হয়। এই ওষুধটি খাওয়ার
সঠিক নিয়ম আছে। ভুল পদ্ধতিতে গ্রহণ করলে এর কাঙ্খিত ফল পাওয়া যায় না।


হরমোনের মাত্রা কম বা বেশি এর ক্ষেত্রে এই ঔষধের
কম বা বেশির প্রয়োগ লক্ষ্য করা যায়।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তারগণ তা ঠিক করে দেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই ঔষধটি দীর্ঘদিন ধরে খেয়ে যেতে
হয়। হরমোনের লেভেল কম বেশি বা স্বাভাবিক হয়ে গেলেও এই ঔষধ ডাক্তারের পরামর্শ
ছাড়া বন্ধ করা যাবে না।

এই ওষুধটি খুবই সংবেদনশীল তাই ঠান্ডা এবং শুষ্ক
জায়গায় রাখতে হয়। ওষুধটি সেবনের পূর্বে বা ক্রয় করার পূর্বে আপনি অবশ্যই
নিশ্চিত হয়ে নেবেন ঔষধের এক্সপায়ার ডেইট দেয়া আছে কিনা।

সকালে ঘুম থেকে উঠেই এটি খালি পেটে সেবন করতে হয়।
এই ঔষধটি খাওয়ার এক ঘন্টার মধ্যে উচ্চমানের আমিষ যুক্ত খাবার সয়া, প্রোটিন
ফাইবারযুক্ত খাবার, এন্টাসিড খাওয়া উচিত নয়। এতে করে ঔষধের কার্যকারিতা কমে যেতে
পারে।

গর্ভকালেও এই ঔষধ বন্ধ করা উচিত নয়। এতে গর্ভবতী
মা এবং সন্তান উভয়েরই ক্ষতি হতে পারে। এক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ডোজ
ঠিক করে নেয়া ভালো। কোন কারণে ঔষধ খেতে ভুলে গেলে যখন মনে পড়বে অবশ্যই ওষুধটি
খেয়ে নেবেন। অথবা পরের দিন দুই ডোজ একসাথে খেয়ে নিলেও চলবে।

ঔষধের মাত্রা ঠিক আছে কিনা তা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ
অবশ্যই রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে
  হরমোনের মাত্রা পরীক্ষা করুন।



হাইপো থাইরয়েডিজম এর চিকিৎসা।

অবশ্যই একজন হরমোন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা
গ্রহণ করতে হবে। হাইপো থাইরয়েজমের চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগীকে মুখে খাওয়ার বড়ির
লেবোথাইরক্সিন দেয়া হয় যার মাধ্যমে হরমোনের ঘাটতি পূরণ করা হয়। এই ওষুধটি খাওয়ার
সঠিক নিয়ম আছে। ভুল পদ্ধতিতে গ্রহণ করলে এর কাঙ্খিত ফল পাওয়া যায় না।


হরমোনের মাত্রা কম বা বেশি এর ক্ষেত্রে এই ঔষধের
কম বা বেশির প্রয়োগ লক্ষ্য করা যায়।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তারগণ তা ঠিক করে দেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই ঔষধটি দীর্ঘদিন ধরে খেয়ে যেতে
হয়। হরমোনের লেভেল কম বেশি বা স্বাভাবিক হয়ে গেলেও এই ঔষধ ডাক্তারের পরামর্শ
ছাড়া বন্ধ করা যাবে না।

এই ওষুধটি খুবই সংবেদনশীল তাই ঠান্ডা এবং শুষ্ক
জায়গায় রাখতে হয়। ওষুধটি সেবনের পূর্বে বা ক্রয় করার পূর্বে আপনি অবশ্যই
নিশ্চিত হয়ে নেবেন ঔষধের এক্সপায়ার ডেইট দেয়া আছে কিনা।

সকালে ঘুম থেকে উঠেই এটি খালি পেটে সেবন করতে হয়।
এই ঔষধটি খাওয়ার এক ঘন্টার মধ্যে উচ্চমানের আমিষ যুক্ত খাবার সয়া, প্রোটিন
ফাইবারযুক্ত খাবার, এন্টাসিড খাওয়া উচিত নয়। এতে করে ঔষধের কার্যকারিতা কমে যেতে
পারে।

গর্ভকালেও এই ঔষধ বন্ধ করা উচিত নয়। এতে গর্ভবতী
মা এবং সন্তান উভয়েরই ক্ষতি হতে পারে। এক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ডোজ
ঠিক করে নেয়া ভালো। কোন কারণে ঔষধ খেতে ভুলে গেলে যখন মনে পড়বে অবশ্যই ওষুধটি
খেয়ে নেবেন। অথবা পরের দিন দুই ডোজ একসাথে খেয়ে নিলেও চলবে।

ঔষধের মাত্রা ঠিক আছে কিনা তা জানতে চিকিৎসকের
পরামর্শ অবশ্যই রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে
  হরমোনের মাত্রা পরীক্ষা করুন।

 

 

হাইপারথাইরয়েডিজম এর কারন কি?



বেশ কিছু কারণ নিচে উল্লেখ করছি।


১. graves নামক  অটোইমিউনো ডিজিজ হলে।

২ থাইরয়েডে প্রদাহ হলে।

৩ TSH করণকারী পিটুইটারি এডেনোমা হলে।

৪ choriocarcinoma and hydatidiform mole হলে।
৫ multinodular goiter বা অনেকগুলো গোটা গোটা হয়ে থাইরয়েড
গ্ল্যান্ড বড় হলে।

পড়ুন………..



হাইপার থাইরয়েটিজম হলে কি কি সমস্যা দেখা দিতে পারে।

১ বুক ধরফর করা।

২ চোখের আকার বেড়ে যাওয়া।

৩ ওজন কমে যাওয়া।

৪ শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া।

৫ গরমে অসহ্য অনুভূত হওয়া।

৬ মেয়েদের ক্ষেত্রে ঋতুস্রাবের সমস্যা দেখা দেয়।

৭ অনিয়মিত মাসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

আয়োডিনের  অভাবে নানাবিধ
সমস্যা দেখা দিতে পারে
  থাইরয়েড গ্রন্থি মূলত এই  আয়োডিনের যোগান দিয়ে থাকে।
একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে প্রায় ১৫ থেকে ২০
মিলিগ্রাম আয়োডিন থাকে। আর এর ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ থাকে থাইরয়েড গ্রন্থির মধ্যে।

রক্তে আয়োডিনের পরিমাণ সময়ের সাথে সাথে বাড়ে বা কমে
বলে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এটি নির্ণয় করা সম্ভব হয় না। প্রস্রাবের আয়োডিনের পরিমাণ
নির্ণয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্তে আসা যায়। প্রস্রাব পরীক্ষার মাধ্যমে যদি দেখা যায় প্রস্রাবে
আয়োডিনের মাত্রা ২০ মাইক্রগ্রাম প্রতি লিটারে।

তবে বুঝতে হবে এর মাত্রা ঠিক আছে।


কিন্তু আয়োডের মাত্রা  ২০ মাইক্রগ্রাম এর কম যদি থাকে তাহলে আয়োডিনের অভাব আছে বলে মনে
করা হয়।
যা হিসাব করা
হয় প্রতি লিটারে।




থাইরয়েড এর ক্ষেত্রে ভিটামিনের ভূমিকা।

থাইরয়েড এর ক্ষেত্রে ভিটামিনের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে।
বিশেষ করে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স এবং ভিটামিন ডি এর পরিমাণ স্বাভাবিক থাকাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ এই দুটি ভিটামিন রেট নেতৃত্ব হরমোন উৎপাদন ও নিঃসরণের ভূমিকা রাখে।


থাইরয়েডের সমস্যা হলে কি ডায়াবেটিস হতে পারে।

হ্যাঁ, হতে পারে। থার্ড নিশিত হরমোন রক্ত বেশি হলে বা
কম হলে ইনসুলিনের এর সংবেদনশীলতা কমে যায়। ফলে ডায়াবেটিস হতে পারে।

গলগন্ড এর জন্যও দায়ী




থাইরয়েড গ্রন্থি আকারে বৃদ্ধি পেলে গলার অগ্রভাগ ফুলে
যায়। আর একে গলগন্ড বলা হয়।

এর কারণ হলো আয়োডিনের অভাব।  গ্রেভস ডিজিস। থাইরয়েড সংক্রমণ এবং থাইরয়েড টিউমার। এসব কারণে
গলগন্ড হতে পারে। হাইপো
এবং হাইপার
থাইরয়েডিজম দুটি ক্ষেত্রেই গলগন্ড হতে পারে।

হাইপার থাইরয়েডিজমের চিকিৎসা।

এসব রোগীর ক্ষেত্রে চিকিৎসগন যেসব ঔষধ দিয়ে থাকে তা
হল- মেথিমাজেল, কারবিমাজল
  ইত্যাদি। এই ওষুধের কাজ মূলত
থাইরয়েড হরমোন কম তৈরি করা। কিছুদিন পর রক্তের টি থ্রী টিফোরের পরিমাণ কমে যায় এবং
রোগীর উপসর্গগুলি আস্তে আস্তে বিলুপ্ত হয়।

বুক ধরফর কম করার জন্য বেটা ব্লকার ব্যবহার করা হয়।

এসব চিকিৎসা দেওয়ার পড়ো যদি রোগ নিয়ন্ত্রণে না আসে
তখন রেডিও আয়োডিন দিয়ে থাইরয়েড রোগ ধ্বংস করে দেওয়া হয়।

অথবা অস্ত্র পাচারের মাধ্যমে ঐ গ্রন্থটি বাদ দিয়ে দেওয়া
হয়।
 

 

 

 

 

Leave a Comment