JANA BUJHA

চোখের যত্নে করণীয় কি?

চোখের যত্নে করণীয় কি?

আমাদের শরীরের অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হল চোখ। তাই সকল ধরনের বিপদ থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটিকে সুরক্ষিত রাখতে কিছু টিপস অবলম্বন করা অত্যন্ত প্রয়োজন। 


১.খাদ্যাভ্যাস-

প্রথমেই খাবারের কথা বলতে হয়। চোখের সমস্যা এড়িয়ে, চোখকে সুরক্ষিত রাখতে হলে ছোট থেকেই নিয়মমাফিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

শিশুদের ক্ষেত্রে ছয় মাস পর্যন্ত মায়ের বুকের দুধই যথেষ্ট। এরপর শিশুর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুকে বাড়তি খাবারে অভ্যস্ত করতে হবে। পাকা পেঁপে, গাজর এবং মৌসুমি ফল পরিমিত পরিমাণে খাওয়াতে হবে। 

প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রেও পুষ্টিকর খাবারের ধরণ প্রায় একই। তবে খাদ্যতালিকায় নিয়মিত মাছ রাখুন। এতে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-থ্রি রয়েছে। ওমেগা-থ্রি চোখের শুষ্কতার সমস্যা দূর করে এবং ‘মলিকুলার ডিজেনারেইশন’ থেকে রক্ষা করে,চোখের উপকার করে থাকে।


২. পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম–

চোখের যত্নে ঘুমের বিকল্প আর কিছু হতে পারেনা। সাধারণত একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ক্ষেত্রে দৈনিক ছয় থেকে আট ঘণ্টা ঘুম ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম প্রয়োজন। তবে ব্যক্তির চাহিদা অনুযায়ী এর ভিন্নতা হতে পারে। 



৩. টেলিভিশন ও কম্পিউটার ব্যবহারে সতর্কতা

সাধারণত কম্পিউটার মনিটর হতে চোখের দূরত্ব ৩ ফুট এবং টেলিভিশন মনিটর হতে ১০ ফুট দূরত্ব রাখা উচিত। অনেকে খুব কাছে থেকে টেলিভিশন, কম্পিউটার দেখে থাকে। এমনটা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।


৪. তীব্র রোদ ও ভাইরাল ইনফেকশন থেকে চোখকে বাঁচানোর উপায়

তীব্র রোদের কারণে অনেক সময় চোখ শুষ্ক হয়ে যায়। এমনটা হলে চোখে অস্বস্তিবোধ হতে পারে। রোদে ঘন ঘন চোখের পাতা ফেললে এই সমস্যা এড়ানো সম্ভব। আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি থেকে চোখকে রক্ষার জন্য সানগ্লাসের ব্যবহার বেশ উপকারী। যারা পাওয়ার চশমা ব্যবহার করেন তারা ফটোসান ব্যবহার করতে পারেন। খাবার ও ধুলাবালি থেকে এলার্জিজনিত বা ভাইরাল ইনফেকশন হতে পারে। এক্ষেত্রে সানগ্লাস ও ছাতা ব্যবহার করা উচিত এবং বাইরে থেকে এসে চোখ ভালোভাবে পানি দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।

এছাড়াও ভাইরাল ইনফেকশনে আক্রান্ত ব্যক্তির সচেতনতা অবলম্বন করে চলতে হবে। নিজের ব্যবহৃত রুমাল ও অন্যান্য জিনিস আলাদা ও জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে যেনো অন্যদের চোখে রোগের সংক্রমণ না হয়।



আরো পড়ুনঃ


৫. কন্টাক্ট লেন্সের ব্যবহার

আজকাল চশমার পরিবর্তে কন্টাক্ট লেন্সের ব্যবহার বেশ লক্ষণীয়। কন্টাক্ট লেন্স অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ ও নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবহার করতে হবে। ব্যবহার শেষে জীবাণুমুক্ত করে সলুশনে ডুবিয়ে লেন্স সংরক্ষণ করতে হবে। তবে, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, পানি পড়া, ময়লা জমা এই জাতীয় উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। 

★চোখের সমস্যা সাধারণভাবে বোঝার উপায়

চোখের সমস্যা বোঝার ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে যেটি বোধ হয় সেটি হলো চোখের দৃষ্টি কমে যাওয়া। চোখ থেকে পানি পড়া, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত ময়লা জমা এসব উপসর্গের ভিত্তিতে চোখের সমস্যা চিহ্নিত করা হয়।


আরো পড়ুনঃ

কখন এবং কতক্ষণ ব্যায়াম করা উচিৎ ?


★বিশেষ দ্রষ্টব্য

চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত আই ড্রপ ব্যবহার করা একেবারেই অনুচিত। 

আই ড্রপ খোলার এর মাসের মধ্যেই ব্যবহার করতে হবে। এর বেশি একেবারেই ব্যবহার করা যাবেনা। 

বছরে অন্তত একবার চোখ পরীক্ষা করতে হবে। চোখের যেকোনো সমস্যায় অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ অবশ্যক।


0 thoughts on “চোখের যত্নে করণীয় কি?”

Leave a Comment